Bangabandhu Shishu Kishore Mela

ইফতার অনুষ্ঠানে তালুকদার আবদুল খালেকের বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার নেতাকর্মীদের ভূয়সী প্রসংশা

বিএসকে মেলা রিপোর্ট : ইফতার অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন,এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের ত্যাগের কারণে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আজ একটি শ্রেষ্ঠ শিশু সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে। কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে অত্যন্ত বিশ্বস্থতার সাথে কাজ করে বলেই আজ এই সংগঠন সুনাম অর্জন করেছে। তিনি সবসময় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি নিজস্ব স্বকীয়তা মেনে সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। তাহলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সংগঠনের কাজ পরিচালনা করা। ফলে কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যন্ত সেই নিয়ম মেনে চলছে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার নেতা কর্মীরা। বেশী রাজনৈতিক সম্পৃক্ত না রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছে সংগঠনের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই।

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা প্রতিষ্ঠার হবার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। বিভিন্ন সময় পরামর্শ নিয়েছে। তিনি সবসময় আমাদের এই পরামর্শ দিতেন, এই সংগঠনটিকে সবসময় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখবে। আমরা নেত্রীর সেই নির্দেশনা আজো মেনে চলি।

সময়ের সাথে সাথে সংগঠনের পরিধি বেড়েছে। বেড়েছে সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞ।উপদেষ্টাদের তালিকা দীর্ঘায়িত হয়েছে।দেশের সেরা বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পর্যায়েও এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিদের করা হয়েছে উপদেষ্টা। সময়ের সাথে সাথে রাজনৈতিক ব্যক্তিকেও উপদেষ্টামন্ডলীতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

২০০৬ সালে ইন্জিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রতিনিধি সম্মেলনে আমাকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা মোঃ জিল্লুর রহমানকে উপদেষ্টা করতে।তিনি আরো নির্দেশ দিয়েছিলেন যেকোন প্রয়োজনে তাঁর সাথে(নেত্রীর সাথে) সাক্ষাত করা সম্ভব না হলে জিল্লুর রহমানের সাথে দেখা করে যেকোন সমস্যার কথা বলতে। আমরা সেই থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর জিল্লুর রহমানকে উপদেষ্টা করেছি। যেকোন প্রয়োজনে তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছি সংগঠন পরিচালনায়। শুধু তাই নয় জনাব জিল্লুর রহমান মহামান্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গভবনে ৪ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতীয় শিশু দিবস ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠান করার সুযোগ পেয়েছি।

বাংলাদেশের বেশীর ভাগ জেলায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার জেলা পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধান পৃষ্ঠপোষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা এই সংগঠনকে কখনো রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করেন না। সেসব জেলার মধ্যে বিভাগীয় জেলা খুলনা অন্যতম। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা খুলনায় প্রতিষ্ঠাকালের সময় পেরিয়েছে সিকি শতাব্দী। ১৯৯৭ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার পথচলা। সদ্য কিশোর উত্তীর্ণ বাকযুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন এম এম কবীর আহমেদ বাবার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় অফিসের সাথে যোগাযোগ করে খুলনার মাটিতে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার বীজ বপন করে।

ধীরে ধীরে কিশোর কবির যেমন বড় হয়েছে তার সাথে সাথে খুলনার আদর্শের উর্বর মাটিতে ফুলে ফলে সুশোভিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা বিগত ২৫ বছরে। সময়ের বিবর্তনে খুলনার নেতৃত্বে গুণগত পরিবর্তন এসেছে।সংগঠন বৃদ্ধি পেয়েছে থানায় থানায়। নেতাকর্মীদের সারিতে যুক্ত হয়েছে আরো নিবেদিত নেতাকর্মী। একই ধারায় পরস্পরের মেলবন্ধনে খুলনার সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হচ্ছে। যা অন্যদের জন্যও অনুকরণীয়।

গত ২৪ এপ্রিল খুলনা জেলা ও মহানগর আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার খুলনা অভিভাবক খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। প্রধান অতিথির ভাষণ দিয়েছেন ইফতার অনুষ্ঠানে।অনলাইনের যুগে সেই ইফতার অনুষ্ঠানে মাননীয় মেয়র যে ভাষণ দিয়েছেন তাঁর ভাষণের একটি ভিডিও ক্লিপিং আমি শুনেছি। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠানে আগত অতিথি এবং সংগঠনের নেতাকর্মীদের সামনে যা বলেছেন, আমার কাছে তা অবিশ্বাস্য ও অকল্পপনীয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে জেলার নেতাকর্মীদের প্রসংশা করে তিনি বলেছেন, এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের ত্যাগের কারণে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আজ একটি শ্রেষ্ঠ শিশু সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে। কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে অত্যন্ত বিশ্বস্থতার সাথে কাজ করে বলেই আজ এই সংগঠন সুনাম অর্জন করেছে। তিনি সবসময় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

খুলনায় আমাদের দুই অভিভাবক বেগম মন্নুজান সুফিয়ান ও তালুকদার আবদুল খালেক। এছাড়া হারুন অর রশিদ, মিজানুর রহমান মিজানসহ আরো অনেকে এই সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। যাদের আন্তরিক ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা খুলনার অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়।

তবে প্রয়াত মন্জুরুল ইমাম বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা খুলনার প্রথম অভিভাবক। তাঁর অগ্রসরমান পথ ধরে আজ অন্যান্য উপদেষ্টারাও খুলনাকে অভিভাবকত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.