Bangabandhu Shishu Kishore Mela

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন নিয়ে কিছু টুকরো স্মৃতি
—————————-
প্রিয় নেত্রী, আপনার প্রশংসাই বঙ্গবন্ধুর শিশু কিশোর মেলার পথ চলার প্রেরণা

২০০০ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করার সিদ্ধান্ত হয় মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির সভায়।তখন তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায়। আমার যে রাজনৈতিক পরিপক্ষতা কম সেদিন বুঝতে পারি, যেদিন নেত্রীকে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত করার জন্য আবেদন করেছিলাম। আহমদ মাহমুদুর রাজা ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব। তিনি আমার দরখাস্ত পাবার পরদিনই ফোন করে বললেন আপনারা অনুষ্ঠানটি নিজেদের মতো করে নেন। আমার আর বুঝতে বাকী রইলো না নেত্রী আসতে রাজী হননি।
২০০০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নেত্রীর প্রথম জন্মদিন পালন করে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা।আয়োজন করা হয় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে।সেদিন জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানও ছিল। সারাদেশের পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের কলকাকলিতে মুখর ছিল মিলনায়তন। সুদৃশ্য পোষ্টার ছাপা হয়।সুনীল মালোর নজর কাড়া পোস্টার সারাদেশে পাঠানো হয়।মেলার বর্তমান প্রধান পৃষ্ঠপোষক মীর মোশাররেফ হোসেনের সহযোগিতায় মোহাম্মদী গ্রুপের অর্থায়নে এই বিশাল আয়োজন। এই প্রথমবারের মতো জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন জনসমক্ষে প্রচারিত হয়। পরের বছর ঘটা করে দলের নেতা কর্মীরা দিবসটি পালন শুরু করে।
২০০২ সালের কথা। সুধা সদনে নেত্রীর জন্মদিনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের প্রচন্ড ভীড়। মেলার পক্ষ থেকে শতাদিক শিশু কিশোর নিয়ে সুধা সদনের এক কোণায় আমরা দাড়িয়ে আছি। ভীড় কমলেই শুভেচ্ছা জানাতে যাবো এই প্রত্যাশায় সময় পার করছি। এর মধ্যে ভেতর থেকে একজন এসে আমাদের ভিতরে নিয়ে গেলেন। আমরা শিশুদের আগে দিয়ে ভীড় ঠেলে ভেতরে গেলাম। নেত্রী শিশুদের দেখে উপস্থিত সবাইকে বললেন ওদের আসতে দাও। শিশুরা নেত্রীর পাশে গিয়ে দাড়ালো। আমরাও অনতি দূরে অবস্থান নিলাম। তিনি শিশুদের নির্দেশ দিলেন তোমারা কেক কাটো। সবাই ‘হেপি বার্থ্ ডে শেখ হাসিনা’ বলে কেক কাটলো। নেত্রী নিজ হাতে সব শিশুকে একে একে কেক খাইয়ে দিচ্ছিলেন।

নেত্রীর সেই বাণী আমাদের প্রেরণা যোগায়
————————–
একবার বঙ্গবন্ধুকন্যার জন্মদিনের আগের দিন সুধাসদনে গিয়েছিলাম নেত্রীর সাথে দেখা করতে। জন্মদিনে শিশু কিশোরদের নিয়ে আসবো একথা শুনতেই রাগতঃ স্বরে আমার উদ্দেশ্যে বললেন, জন্মদিন পালন কেন্? আমার উত্তর ছিল নেত্রীর উদ্দেশ্যে, আপা শিশুরা জন্মদিন খুব পছন্দ করে। ওরা আনন্দ করতে চায় ওদের মতো। আমার কথা শেষ নাহতেই নেত্রী তাঁর সাথে দেখা করতে আসা আওয়ামী লীগের অংগসংগঠনের কিছু নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বললেন, ওরা (নেত্রী আঙ্গুল দিয়ে আমাদের দেখিয়ে) টাকা চায়না, চাঁদাও তোলেনা। ওরা কিভাবে অনুষ্ঠান করে? তোমাদের টাকা দিতে হবে কেন?বঙ্গবন্ধু কি শুধু আমার একার?এই ঘটনা ২০০১ সালে অক্টোবর নির্বাচনের পর। ঐ সময় ধানমন্ডি ১২/এ তে আওয়ামী লীগকার্যালয়ে আরো একবার বলেছিলেন উপস্থিত কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে।বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি প্রসঙ্গক্রমে বলেছিলেন‘ ওরা কারো কাছ থেকে চাঁদা চায়না।
প্রিয়নেত্রী,
আমাদের উদ্দেশ্যে আপনার সেই বিশ্বাস এখনো রক্ষা করে চলেছি। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা নিয়ে আপনার গর্বের কথা আমরা আজো অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার বিষয়ে আপনার সেইবাণী হয়তো আজ আমাদের আত্মত্যাগী হতে বাধ্য করেছে।যারা চাঁদা তোলে দলকে বিতর্কিত করছে,তাদের শাস্তি দিয়েছেন,সমালোচনা করছেন,আমরাও যদিসংগঠনের নামে চাঁদাবাজি করতাম আমাদের বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ নিতেন আপনি।
মনীষীদের কিছু বাণী মানতে হয়। মানলে মর্যাদার আসনে বসা যায়। আপনি সেই মনীষীর ভূমিকায় আমাদের যে প্রশংসার বাণী শুনিয়েছিলেন, সেই বাণী আজ আমাদের স্বচ্ছতার জায়গায় বসিয়েছে।আপনি আরো বলেছিলেন ‘ত্যাগেই সুখ ভোগেনয়”। আমরা সেই ত্যাগই করে যাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা,
আগের প্রতিটি জন্মদিনে শিশুদের নিয়ে আপনার কাছে যাবার সুযোগ হতো। কিন্ত এখন সেটা হয়না। কারণ বিগত ১০ বছর আপনি জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেবার কারণে আপনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো সম্ভব হয়না।  তাই নিরবচ্ছিন্নভাবে টুঙ্গিপাড়াসহ বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার ৪শতাধিক শাখা সারাদেশে আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করে আপনার জন্মদিনে নানা কর্মসূচি রাখে। এবছর টুঙ্গিপাড়ায় নেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূূূচি। মিলাদ,  কোরানখানিি, দোয়া  মাহফিলসহ  নানা কর্মসূচি।  আপনার জন্মদিনটি স্মমৃতিময় করে রাখতে প্রকাশিত হবে জনপ্রিয় শিশু কিশোর   পত্রিকা কিশোর বাংলা ও বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার   যৌথ প্রযোজনায়  বঙ্গবন্ধুর  ” শততম জন্মস্মারকগ্রনথ”।  এতেই আমরা তৃপ্ত।আপনি আমাদের সবচেয়ে আশার জায়গা। ১৬ কোটি মানুষের আশ্রয়স্থল।জন্মদিনে আমরা আপনার দীর্ঘায়ু কামনাকরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published.