Bangabandhu Shishu Kishore Mela

‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র প্রতিষ্ঠাতা দাবীকারী কথিত প্রতিষ্ঠাতা অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী জনাব হারুন রশীদ আজাদ সমীপে খোলা চিঠি-

জনাব,

হারূন রশিদ আজাদ। সালাম নেবেন। ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র প্রতিষ্ঠাতার দাবী করে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনার এই দাবী নির্জলা মিথ্যাচার, অবাস্তব ও কাল্পনিক দাবী ছাড়া আর কিছুই নয়।

সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে আপনি দাবী করছেন ১৯৮৮ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা কেন্দ্রীয় পরিষদ’ নাম দিয়ে কথিত সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী হয়েছেন। ঐ রাজনৈতিক দুঃসময়ে দেশ ছেড়ে বিদেশীবাসী হবার মধ্য দিয়ে আপনার স্বার্থপরতার প্রমাণ মেলে। তখন দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে তীব্র আন্দোলন চলছে। কিন্তু আপনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা ভাবেননি। বঙ্গবন্ধুর খুনী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা ভাবেননি। তখন স্বৈরাচার হটাতে নূর হোসেন, ডা. মিলন দেলোয়ারের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। স্বৈরাচারের পতন ঘটাতে দলবল নির্বিশেষে একাট্টা হয়েছে সবাই । বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁকে হত্যার জন্য ১৯ বার চেষ্টা হয়েছে। তবুও তিনি এদেশের মানুষকে অরক্ষিত রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি।  আর আপনি কিনা নিজেকে নিরাপদ রাখতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

নিজেকে প্রতিষ্ঠাতার দাবীকে জোরালো করতে বঙ্গবন্ধুর সাথে আপনার ছবিও প্রচার করে বেড়াচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আপনার জানা উচিত বঙ্গবন্ধু বেঈমান মোনাফেক খন্দকার মোশতাককে অনেক ভালোবাসতেন। বুকে জড়িয়ে ধরতেন। এরকম বহু ছবি আমরা দেখেছি বঙ্গবন্ধুর সাথে খুনী মোশতাকের । আর সেই খন্দকার মোশতাকই বঙ্গবন্ধু খুনের মূল পরিকল্পনাকারী।

আপনি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা কেন্দ্রীয় পরিষদ’ নাম দিয়ে সংগঠন করেছেন। তার আরেক প্রমাণ, আপনি বঙ্গবন্ধুর নামে সংগঠনটির উপদেষ্টা দেখিয়েছেন ড. এমাজউদ্দিনকে যিনি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার আমৃত্যু উপদেষ্টা ছিলেন। ১৫ আগষ্টে তিনি খালেদা জিয়ার জন্মদিনের কেক কেটেছেন মৃত্যু পূর্ব পর্যন্ত। ড. এনামুল হককে দেখিয়েছেন কমিটির ১নম্বর সহ সভাপতি। এই ড. এনামুল হক এরশাদের দালালি করে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হয়েছিলেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশ যখন উল্টোপথে চলা শুরু করে। তখন শুরু হয়ে যায় ইতিহাস বিকৃতির মহোৎসব। বঙ্গবন্ধুর খুনীরা জিয়া ও এরশাদ জামানায় ধৃষ্ঠতা দেখিয়েছে ‘তাদের কিচ্ছু হবেনা”এমন দম্ভোক্তি দেখিয়ে। ঐসময় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে মু্ক্তিযোদ্ধারা  যুদ্ধ করেছে, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে আওয়ামী লীগের পতাকা তলে জড়ো হয়েছ,  তারা নীরবে চোখের পানি ফেলে অন্তর জ্বালায় দগ্ধ হয়েছেন। প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর খুনের বিচার দাবী করতে পারেনি। কবিতা গানে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবী করেছে সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ও লেখকরা।

ঠিক সেই সময় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবীকে আরো জোরালো করতে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ  ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমরা ৫ তরুন বঙ্গবন্ধুর নামে একটি শিশু সংগঠন করার পরিকল্পনা করি। যার পরিপূর্ণ রূপ পায় ১৯৯০ সালের ৩ আগষ্ট। কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন দেশের শ্রেষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র যাঁরা প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন তাঁরা হলেন- সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন (প্রয়াত), বিচারপতি কে এম সোবহান(প্রয়াত),ড. নীলিমা ইব্রাহিম(প্রয়াত)

শওকত ওসমান(প্রয়াত), কবি শামসুর রাহমান(প্রয়াত), এম আনিসুজ্জামান(প্রয়াত), আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, মুস্তাফা সারওয়ার(প্রয়াত), ড. মযহারুল ইসলাম(প্রয়াত), কলিম শরাফী(প্রয়াত)

ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ড. দুর্গাদাস ভট্টাচার্য্, সন্তোষ গুপ্ত(প্রয়াত), রাহাত খান, সারাহ বেগম কবরী, আসাদ চৌধুরী, কবি মহাদেব সাহা

কবি রফিক আজাদ(প্রয়াত), হাবিবুর রহমান মিলন(প্রয়াত), আলহাজ্ব মোঃ জহিরুল হক(প্রয়াত), কবি শামসুল ইসলাম(প্রয়াত), ড. ইনামুল হক, খ ম হারুন, মশউদ-উশ-শহীদ, লাকী ইনাম, এম এ গনি, জহীর কাজী, সেলিম নজরুল হক প্রমুখ, সালমা চৌধুরী, সালেহ আহমেদ প্রমুখ। উপদেষ্টাদের সম্মতি নিয়ে আমরা দেখা করি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাথে।বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’ প্রতিষ্ঠায় তাঁর সমর্থন চাইলে তিনি আমাদের সমর্থ্ন জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের সাথে আছি।” এই ভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যার অকুন্ঠ সমর্থন নিয়ে প্রতিষ্ঠা হয় ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসেছেন। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সাংগঠনিক কাজ পরিচালনায় বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন ।প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি প্রতিবছর জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার দিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন। তাঁর উপদেশ, পরামর্শ ও সরাসরি প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র কার্য্ক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শোকের মাসে প্রতিষ্ঠার তারিখ নিয়ে আপনি প্রশ্ন তুলেছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনের পর খুনী মোশতাক সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। পঁচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রকাশ্যে বিচার দাবী করার সাহস কেউ দেখাতে পারেনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীদের  হৃদয়ে নীরবে রক্ষক্ষরণ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীর বিচার দাবী করেছে বিভিন্নভাবে। আস্তে আস্তে সেই দাবী তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। শোকের মাস আসলে সেই তীব্রতা বাড়ে। ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে এসে মানুষ আবেগ প্রত্যক্ষ করেছি । সেই আবেগ ধীরে ধীরে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আমরা শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’ প্রতিষ্ঠার দিন ক্ষণ আগষ্ট মাসেই ঠিক করি। অবশেষে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনকের নামে বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’১৯৯০ সালের আগষ্টের ৩ তারিখ প্রতিষ্ঠা পায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে লালিত এই শিশু সংগঠনটি ‘মুজিব বর্ষে’ই প্রতিষ্ঠার ৩ দশক পার করেছে। সারাদেশে শাখার সংখ্যা চার শতাধিক।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতীয় শিশু দিবসের প্রস্তাবক প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা ড. নীলিমা ইব্রাহিম। ১৯৯৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সমর্থনে ১৭ই মার্চ জাতীয় শিশু দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত প্রথম জাতীয় শিশু দিবস উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা। পরবর্তীতে ছিয়ান্নব্বইতে  আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে ১৯৯৭ সালে ‘জাতীয় শিশু দিবস’সরকারী স্বীকৃতি পায়। এ সংক্রান্ত সংবাদ মিডিয়ায় ফলাওভাবে প্রচারিত হয়েছে।

নিশ্চয় এই সব সংবাদ আপনার চোখ এড়িয়ে যায়নি? হঠাৎ বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রতিষ্ঠাতার দাবী জোরালো করতে ফেইসবুক ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন। নিশ্চয় রাজনৈতিক ফায়দা আদায় করার ইচ্ছে আছে আপনার। বর্তমানে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকে ফায়দা আদায় করার চেষ্টা করছে।

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার এই ত্রিশ বছরে অনেকে গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কাজ, সাংগঠনিক কার্যক্রমে  নিষ্ক্রিয়তা, দুর্নীতি ও সম্মেলনে পরাজিত হয়ে সংগঠনের নামে নতুন কমিটি করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে, অতীতেও একই চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তারা অতল গহবরে হারিয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অভিভাবকত্বে গড়ে ওঠা, দেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের উপদেশে প্রতিষ্ঠিত, নিবেদিত নেতা কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল, বাংলাদেশের শিশু কিশোরদের প্রিয় পরিবার ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র ইতিহাস নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র এদেশের মক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনগন ও নতুন প্রজন্ম কখনো মেনে নেবেনা। জাতির পিতার জন্মশত বর্ষে ৩ দশক পূর্ণ করা জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’  বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে সোনার বাংলার সোনার মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে।

-মিয়া মনসফ

প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা

সভাপতি

কেন্দ্রীয় কমিটি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *